ভাইরাল তাজু ২.০ | জিলাপির সরকারি দাম ও অন্যান্য

ভাইরাল হওয়ার পরপরই তাজুর বাড়িতে পঙ্গপালের মতো ছুটে গেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় মিডিয়াগুলো । কারণ অফিস অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছে, আজকের মধ্যেই প্যাকেজ রেডি করে ডেস্কে পাঠাতে হবে । এইটা বার্তা সম্পাদকদের অনুরোধ না, আদেশ । তাড়াতাড়ি রিপোর্ট পাঠাতে হবে!

অথচ তাজু তাঁর ভিডিওতে বারবার একটি কথা-ই বলে আসছে, ‘আমাদের কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বর উপজেলার দরিদ্র নারায়ণপুর ইউনিয়ন’ । উনি পয়েন্ট অব ভিউ হইলো ‘দরিদ্র’ । এ প্রসঙ্গে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তাঁর এলাকার রাস্তাঘাটগুলো উন্নত নয় । বৃষ্টি এলে কাঁদা-প্যাক জমে মানুষের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে । এমনকি গরু পারাপারের ভিডিওতে তিনি বলেছেন, সেখানে ব্রীজ নির্মাণ হলে গরু ও মানুষের কষ্ট লাঘব হতো ।

তাজুর কনসার্নের জায়গা তাঁর চেহারা মিডিয়ায় দেখানো না । বরং তাঁর চরাঞ্চলের মানুষ দুর্ভোগ লাঘব করানো । অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রে দুর্ভোগ কমানো । স্রেফ এটুকুই চায় তাজু । নিজের মলিন ও ভগ্ন চেহারা সে টিভিতে দেখবে, পত্রিকার পাতায় দেখবে সেটা সে চায় না । 

তাজু আরও বলেছেন, সাংবাদিকরা তাঁর এলাকার খবর করেন না । এজন্য তিনি ভিডিও করেন । তিনি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে । আপনারা তাঁকে নিয়ে ট্রোল করেন । এতে তাঁর কষ্ট নেই । তিনি চান, চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।

মিডিয়াগুলোর উচিত তাঁর কথার পয়েন্ট ধরে ধরে সেই এলাকার মানুষের চাওয়া অনুযায়ী রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রীজ ও স্থাপনা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা, জবাবদিহিতার আওতায় আনা । 

তাজু তাঁর প্রোফাইলে ‘বিনোদন পেতে পেইজটিতে ফলো দিন’ উল্লেখ করলেও তাঁকে হলুদ মিডিয়া ও চাটার গোষ্ঠী ‘সাংবাদিক’ অবহিত হলে ট্রল করতেছে । এই হলুদ মিডিয়াগুলোর তো একাডেমিক টার্ম অনুযায়ী ‘সিটিজেন জার্নালিজম’-এঁর বিষয়টিও মাথায় আনা উচিত । উনি বিনোদনমূলক কনটেন্ট তৈরি করলেও আদতে এটাকে ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বলা যায় । 

শুধু যিনি মাঠ পর্যায়ে রিপোর্ট তৈরি করেন তিনি একাই সাংবাদিক নন । একটা রিপোর্ট ফাইনাল করতে যতগুলো ডেস্ক পার হয় সকলেই ‘সাংবাদিক’ । 

ভাইরাল তাজুর পরের অবস্থা কি হবে সেটাও আমাদের জানা । তাঁর বাড়িতে মিডিয়ার লোক তো যাবেই পাশাপাশি তাঁকে উৎপাত করবে এদেশের মিলিয়ন ফলোয়ারের তারকা, কনটেন্ট ক্রিয়েটররা । তাঁকে বানানো হবে মুরগি । আর সেই মুরগিকে রোস্ট বানিয়ে ডলার কামাবে ওইসকল লোকেরা । 

তারপর তাঁর এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি গিয়ে তাঁর সাথে ভিডিও করবে । আর্থিক সাহায্য দেবে । অতঃপর তাজু এভাবেই আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে পড়বে । টাকার নেশায় পড়ে সে একসময় অভিনেতাও বনে যেতে পারে । কথায় আছে না, অর্থ-ই সকল অনর্থের মূল । 

এঁর পূর্বেও হিরো আলম, সিদ্দিক চোর, ভাইরাল দেলেদের সাথেও এমন ঘটনাগুলোই ঘটেছে । যাইহোক, তাজু ভাই ২.০’র শেষ ভালো হোক । অবহেলিত, বঞ্চিত মানুষেরা তাঁদের অধিকার ফিরে পাক এটাই কাম্য । জনগণের প্রতিটি পয়সা ট্যাক্সের টাকার যথাযথ হিসাব হোক ।

Comments

Popular posts from this blog

কবিতা | তুমি চলে যাবার পর

সংবাদমাধ্যমে দৈনদশা

কবিতা | এবং এখান থেকে