আব্বা; আমার বটগাছ
আব্বাকে দেখেছি বাড়িতে থাকলেই কোনো না কোনো কাজ বের করবেনই । হয়তো বিদ্যুতের লাইন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাবেন, বাড়ির পাশে ঝোঁপঝাড় পরিষ্কার করবেন, জমি থেকে মাটি এনে দেবে যাওয়া স্থানে দিবেন, জমিতে কাজ করবেন, আসবাবপত্র এক স্থান থেকে অন্যত্র সরাবেন ।
এধরণের মানুষগুলো কাজ ছাড়া একদমই থাকতে পারেন না । দেখা যাবে সারাদিন টুকটুক করে এটা-সেটা করবেন । আর সেটা করেই বেলা পার করে দিবেন ।
কখনও দেখি আব্বা সকাল সকাল (রাত ৮-৯টা) ঘুমিয়ে পড়েছেন । গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছেন । তখন ঘরে উঁকি দিয়েই বুঝি, বয়স বেড়েছে; কাজকর্মে ব্যতিব্যস্ত, ক্লান্ত-শ্রান্ত মানুষটার বিশ্রামের বয়স হয়েছে ।
মাঝেমধ্যে আব্বার হাত-পা ব্যথা করে, মাথাব্যথায় এপাশ-ওপাশ করেন । বাড়িতে থাকলে মা, আমি অথবা ছোটভাই আব্বার গায়ে তেল মালিশ করে দিই, মাথার চুল টেনে দিই ।
বয়সের ভাড়ে নুয়ে পড়লে মানুষের ইচ্ছেশক্তিও দূর্বল হতে থাকে । শরীরে নানাবিধ রোগশোক বাসা বাঁধে । কাজ থাকলেও মনেহয় একটু জিরিয়ে নিলে বোধহয় ভালো লাগতো ।
গরমের দিনে বাড়ির বারান্দায় কখনও দেখি আব্বা শীতল পাটি বিছিয়ে গভীর ঘুমে জড়িয়ে আছেন ।
জীবনের সমস্ত শখ আর আহ্লাদ বাপেরা স্ত্রী ও সন্তানের জন্যই বিসর্জন দেন । বাহিরে কোনো ভালো খাবার দেখলে সেটা মনেহয় বাড়িতে গিয়ে সবাই মিলে খাই । পরনের জন্য ভালো কোনো জামা পছন্দ হলে মনেহয় সন্তানের জন্য আগে কিনি । নিজেরটা পরে দেখা যাবে ।
পৃথিবীতে প্রতিদিন কত কত গ্যালন বীর্য উৎপাদন এবং নিঃসরন হচ্ছে । সেখান থেকে সন্তান-সন্তদি উৎপাদন হচ্ছে । আদতে বীর্য নিঃসরণই শুধু বাবা হওয়ার মূল কথা নয় ।
সংসারের এই দায়-দায়িত্ব পালনের মধ্যে দিয়েই একেকজন পুরুষ বাবা হয়ে ওঠেন । ঘর-সংসার জন্য নিজের জীবনকে বিপন্ন করে অন্ন, বস্ত্র ও নিরাপদ বাসস্থানের নিশ্চয়তা প্রদান করেন । মোটাদাগে বলা চলে, ‘বাপ হওয়া সহজ বিষয় নয়!’ । অনেক আত্মত্যাগ আর সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই বাবা হয়ে উঠতে হয় ।
______________________________________________
সাব্বির আহমেদ সাকিল
১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল | শুক্রবার | ২৭ মার্চ ২০২৬ ইং | সৈয়দপুর, নীলফামারী
Comments
Post a Comment