বাঙালী মোসলমানের ব্যবসার মৌসুম!


ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ঈদের মার্কেটগুলো আরও চাঙা হচ্ছে । মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মার্কেটগুলোতে । শপিংমলগুলোতে পুরুষের চাইতে নারীর সংখ্যা-ই বেশী চোখে পড়ে । 

বাঙ্গালী মুসলমান দোকানদারেরা পসরা সাজিয়ে রেখেছে । শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার জন্যই পোশাক, জুতোর পসরা । যাঁর কাছে যত বেশি দাম পাচ্ছে সেটাতেই বেচা-কেনা করছে মুসলমান দোকানীরা । চড়া মূল্যের কারবার প্রত্যেক মার্কেটে । নেই তেমন সরকারি নজরদারি! 

থাকবেইবা কি করে, সরকারের জনবল তো কম । ক’টা মার্কেট ই বা সামলাবেন তাঁরা । 

ওঁদিকে ধনিক শ্রেণীদের তো অর্থকড়ির অভাব নেই । ধনীদের জন্য রয়েছে আড়ং, ইলিয়েন, রিচম্যান, টপটেন । যাঁদের কাছে পন্য কেনাকেটার ক্ষেত্রে প্রাইস ট্যাগ কোনো বিষয় নয় । এই যে পন্যগুলো অধিক দাম দিয়ে ধনীরা কিনছেন তাঁরা কি কখনও ভেবে দেখেন যে পন্যগুলোর ন্যায্য মূল্য নেয়া হচ্ছে । যদিও তাঁদের ভাববারই বা কারণ নেই । অঢেল টাকা থাকলে ফুরাবার জায়গাও তো লাগবে । 

মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তদের জন্য যে মার্কেটগুলো রয়েছে সেগুলোতেও চড়া দামেই কিনতে হচ্ছে । মানের দিকে যা হয় হোক, চড়া দাম-ই মূল কথা । 

দুই ঈদে বঙ্গীয় মুসলমান দোকানীরা সারা বছরের প্রফিট উসুল করে নেয় । যেকারণে সারাবছর ব্যবসা না করলেও চলে । 

বছরের পর বছর মার্কেটগুলোতে একই চিত্র । এভাবেই এ বঙ্গের মুসলমানরা অতি মুনাফা অর্জন করে আসছে । 

বাঙ্গালী মুসলমানদের কাছে সুদ হারাম হলেও কোনো পন্যের অধিক দাম নেয়া মোটেও হারাম না । এইটা জায়েজ । এইটা ব্যবসা । 

আমরাও এসবের সাথে পাল্লা দিয়ে মার্কেটে যাচ্ছি পরিবার-পরিজনের জন্য পোশাক-পরিচ্ছদ কিনতেছি বাঙ্গালী মুসলমানদের কাছে থেকে । যাঁদের রক্তে-মাংসে অধিক মুনাফার লোভ । চোখে-মুখে স্ট্রেংলারস অব বোম্বের ডাকাতদের ছাপ । 

এটাই বাঙ্গালি মোসলমান । এঁরাই দাঁড়ি-টুপি পরে দোকানদারি করে, ব্যবসা করে । আর ন্যায্য মূলের বদলে অন্য মুসলিম ভাই-বোনের পকেট কেটে নিয়ে যাচ্ছে । 

এই অতি মুনাফাখোর ডাকাতদের থেকে এ জন্মে আমরা কখনোই রেহাই পাবোনা, কখনোই পাবোনা ।

২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল | শনিবার | ১৪ মে ২০২৬ ইং | সৈয়দপুর, নীলফামারি

Comments

Popular posts from this blog

কবিতা | তুমি চলে যাবার পর

সংবাদমাধ্যমে দৈনদশা

কবিতা | এবং এখান থেকে