নানীর সেই আদরের দিনগুলো!
মাঝেমধ্যে নানীকে ভীষণরকম মিস করি । কাছের মানুষ, প্রিয় মানুষ, আত্মার মানুষকে হারানোর যে কি তীব্র যাতনা তা বেশ টের পাই । জীবনানন্দের ভাষাতে সেই কষ্টের বিবরণ দিতে গিয়ে এভাবে বলতে হয়, ‘এইসব শীতের রাতে আমার হৃদয়ে মৃত্যু আসে ।’
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নানী বেশ অনাড়ম্বর জীবন কাটিয়েছেন । যুবতী থাকাকালীন তিনি বিলাসী জীবন কাটিয়েছেন কি-না তা জানা হয়নি কখনও । কিন্তু শেষের বয়সে এসে দেখেছি কত ছোট্ট চাওয়া পাওয়া নিয়ে তিনি সুখ খুঁজেছেন । শিফন শাড়িতে কাটিয়ে দিয়েছেন বছরের পর বছর ।
অথচ তিনি ধর্নাঢ্য এক পরিবারে জন্মেছিলেন । বনানী-গন্ডগ্রামের অধিকাংশ জায়গা ছিলো নানীর বাবার । গন্ডগ্রামের যে হাসপাতাল সেটা সহ বেশ দামী জায়গাগুলো তাঁর । সেগুলোর দাম এখন শত শত কোটি টাকা ।
ঈদের দিন নানী খুব যত্ন করে চোখে সুরমা লাগাতেন । আহ্! পাখির নীড়ের মতোই ছিল তাঁর দু’চোখ । তিনি আমার দিকে অশ্রুসজল চোখে তাকাতেন । তাঁর দু’চোখে শুধু আমার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতাম ।
মা যতবার না নিজ মুখে আমার ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করতেন তাঁর থেকেও বোধহয় বেশী দোয়া করতেন আমার নানী । যাঁর চোখে মায়া, ভালোবাসা আর দোয়া ছাড়া আরকিছুই খুঁজে পাইনি।
নানী এত তাড়াতাড়িই চলে যাবেন সে কথা ভাবতেই আমার মেরুদণ্ড বেয়ে শীতল রক্ত বয়ে যায় । আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে নানী আর নেই । কতদিন তাঁরে দেখিনা । কতদিন তিনি আমার জন্য যত্ন করে সেদ্ধ ডিম ভেঙ্গে দিয়ে আলুঘাটি খাওয়াননি।
আমার আরক্ত বাসনা আমাকে পীড়াগ্রস্থ করে তোলে । সময় পেলেই নানীর কবরের পাশে যাই । যেখানে নানার পাশে তিনিও শুয়ে আছেন । কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করে ফিরে আসি । মনেহয় নানী বাঁশঝাড়ের ভেতর থেকে ডেকে বলবেন, ‘হাত-মুখ ধুয়ে এসে সালুন দিয়ে ভাত খা ।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি নানা-নানী উভয়ই জান্নাতের সুউচ্চ মাকামে রয়েছেন । এবং নিশ্চয়ই একদিন তাঁদের সাথে দেখা হবে । নানা কাঠের জলচৌকিতে বসে পান চিবাতে চিবাতে বলবেন, ‘সাকিল আলী এসেছে, দেখো মহিষের মতো হাত-পা ধুলোয় মেখে এনেছে’ । নানী তখন চুলোপাড়ে বসে আমার জন্য আলুঘাটি বানাবেন । আমি আটাশ চাউলের গরম ভাতের সাথে আলুঘাটি মিশিয়ে পেট ভরে ভাত খাবো ।
সাব্বির আহমেদ সাকিল
২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, শীতকাল | শুক্রবার | ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং | মিরপুর, ঢাকা
Comments
Post a Comment