জারিয়া-ঝানজাইলের সেই অপেক্ষা!

সেই পূর্বধলা থেকে জারিয়া-ঝানজাইলের ট্রেন ভ্রমণকে কি দারুণভাবে মিস করি । প্রাতে উঠে নাওয়াখাওয়া শেষে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা । স্ট্রেশন ভর্তি মানুষজন । শিশু, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী, নারী, বৃদ্ধ সবাই দাঁড়িয়ে আছে । 

সবার চোখে অপেক্ষা, কখন ময়মনসিংহ থেকে ট্রেনটা আসবে । কখন তাঁদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছুবে । 
ট্রেনে রওনা দেয়ার সময় কোনো নির্দিষ্ট একটা গান বেজে যেত । যখন পূর্বধলাতে থাকতাম তখন আড়ষ্ট এক বিষন্নতা ছিলো, সেসময়টাতে হাওয়া সিনেমার 'এ হাওয়া' গানটা রিলিজ হয় । আমি ইয়ারফোন কানে দিয়ে ট্রেনের জানালা দিয়ে সোনালী দিন দেখতাম আর গান শুনতে শুনতে জারিয়া স্টেশনে পৌঁছে যেতাম । 

মাঠ পেরিয়ে সুদূরে ট্রেন ছুঁটে চলছে । বগির ভিতরে নানানরকম কথাবার্তা । কে কোন বিষয় নিয়ে গল্প করছে শুধু নির্দিষ্ট ক’জন ছাড়া কারোরই সেটা শোনার সময় নেই । কত ভাবনা, কত কথা, কত গল্প মানুষে মানুষের মাঝে । 

কাজ শেষে ফিরবার পথে হালনার বিলে গোধূলি দেখা ।  টকটকে এক লাল সূর্য পশ্চিম দিগন্তে ডুবে যাচ্ছে । বিলের জলের উপর জলকেলি চলছে । 

পূর্ণিমা রাতে পাশেই এক খালের পাড়ে গিয়ে বসে বসে জোছনার পসর গায়ে মেখেছি । চারিদিকে একাকীত্ব আর সঙ্গীহীনতার সময়গুলোতে সঙ্গ দিতো প্রিয় কোনো কবিতা, প্রিয় কোনো গান, প্রিয় কোনো সিনেমা । এভাবেই দিন কেটে গেছে কতদিন । 

 সময়গুলো পার হয়ে গেলো একটা একটা করে । কখনও কি ফিরতে পারবো আবার সেখানে, আবার ট্রেনে উঠবো, গোধূলি দেখবো, জোছনা দেখবো । বিষন্নতা আমাকে বড্ড ক্লান্ত করে...ক্লান্ত করে...ক্লান্ত করে কবে আসবে ফিরে ভালোবাসা...

সাব্বির আহমেদ সাকিল 
১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল | বুধবার | ৩০ নভেম্বর ২০২২ ইং | বগুড়া

Comments

Popular posts from this blog

কবিতা | তুমি চলে যাবার পর

সংবাদমাধ্যমে দৈনদশা

কবিতা | এবং এখান থেকে