সুলতানগঞ্জ, বনানীর হাট...


রব্বানী ভাই সুলতানগঞ্জ, বনানী হাটে মিষ্টির দোকান করেন বহু বছর ধরে । সেদিন বাড়ির জন্য সদাই কিনতে গিয়ে ভাইকে বললাম, ভাই আমি গতরাতে একটা স্বপ্ন দেখেছি আজ থেকে একশো বছর পর আপনার এই দোকানের জায়গাটাতে নতুন কেউ মিষ্টি বিক্রি করবে...(সাথে আরও কিছু কথা বললাম) । ভাই হেসে বললেন, একশো লাগবেনা বয়স পঞ্চাশের কোঠায়, ক'দিন আর বাঁচবো । 

একটা সময় ছিলো যখন বাড়ির রেগুলার বাজারটা আমিই করতাম । সেই কৈশোরকাল থেকেই । এদিক থেকে আমি অগ্রিম সংসারী মানুষ বলা যায় । শাক-সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস সবই কিনতে পারি । যদিও মা’কে বলি, মা সংসার জীবনটা বড়ই যন্ত্রণার, ওখানে স্বাধীনতা নেই । সংসার-টংসার আমাকে দিয়ে বোধহয় হবেনা । মা হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, এটাইতো পৃথিবীর নিয়ম রে বাবা, তোমার দাদা-নানার তো এভাবেই করে এসেছেন তাঁর পূর্বপুরুষরাও এভাবেই করেছেন । 

 কৈশোরে বনানী যেতে ভাড়া লাগলো মাত্র ২ টাকা । এখন অবশ্য সেটা ৫ টাকা হয়ে গেছে । আমার এই সামান্য বয়সে কত মানুষের গাড়িতে চড়েছি, এখানে সেখানে গেছি । কত মানুষের সাথে পরিচয় ঘটেছে, কত মানুষ মারা গেছে । বনানী কিংবা সাতমাথা থেকে বাড়ি আসার সময় খেয়াল করি পরিচিত কোনো গাড়িওলার সাথে দেখা হয় কি-না, অন্তত এতে বোঝা যায় যে মানুষটা বেঁচে আছেন । 

আমাদের প্রধান হাট-বাজার সুলতানগঞ্জ, বনানী । কত পুরোনো সে বাজার । প্রযুক্তি যখন মানুষকে এতটা ছোঁয়নি তখন থেকে, যখন দাদারা গরু কিংবা মহিষের গাড়ি করে হাটে যেতেন । যখন এসব অঞ্চল জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল, বাঘের ভয় ছিলো । নানীর বাবা ছিলেন অনেক সম্পদশালী মানুষ, গণ্ডগ্রামের প্রধান সব জায়গাতে ছিল তাঁর জমি । যেখানে এসময় জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল এখন সেখানে বড় বড় কংক্রিটের দালান বেড়ে উঠেছে । 

পৃথিবীটা কত তাড়াতাড়ি যেন বদলে যাচ্ছে । আজ থেকে একশো বছর পর ব্যতিক্রমী দু-চারজন ছাড়া কেউ থাকবোনা । সারাদিন এতসব পোস্ট, ছবি, ভিডিও আপলোড করার মতো কেউ থাকবেনা । বছরের পর বছর কোনো নির্দিষ্ট শেষ পোস্টটা ওভাবেই থেকে যাবে । 

এটি যেহেতু আমার অনেক পুরোনো আইডি সেহেতু এই আইডি থেকে কত মানুষকে হারিয়েছি, নতুন করে কত মানুষ যুক্ত হয়েছেন-হচ্ছেন । মিথ্যা অহমিকা চর্চা, অন্যের সম্পদ লুণ্ঠন করা, মিথ্যা বলা, সুদ-ঘুষের এসকল চর্চা একজন মানুষ কত বছরইবা করবার ক্ষমতা রাখেন । একটা লিমিটেশনের মধ্যেই মানুষকে চলে যেতে হয় । 

পৃথিবীর পথটা কত ধূসর । একটা একটা করে জীবন থেকে দিন কেটে যাচ্ছে । শৈশব, কৈশোর কেটে গেছে, যৌবন কেটে গেলেই বৃদ্ধকাল ঘনিয়ে আসবে তারপরই হুট করে একদিন সব ছেড়ে চলে যেতে হবে । সময় ফুরিয়ে আসছে সেই অনন্ত যাত্রাপথের দিকে, ছায়াপথের দিকে । 

সাব্বির আহমেদ সাকিল 
১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল | মঙ্গলবার | ২৯ নভেম্বর ২০২২ ইং | আপন নীড়, বগুড়া

Comments

Popular posts from this blog

কবিতা | তুমি চলে যাবার পর

সংবাদমাধ্যমে দৈনদশা

কবিতা | এবং এখান থেকে