অগ্রহায়ণের মাঠে বসে জীবনানন্দ!
এই কুয়াশার মাঠ পেরিয়ে একদিন চলে যাবো সফেদ শাড়ী পড়ে । রাত্রির এই আলো, আনন্দ, বেদনাকে সব ছাপিয়ে চলে যাবো । চারপাশের সব শোরগোল, কোলাহল, যান্ত্রিক শব্দ, যানজট সব ছেড়ে চলে যাবো ।
অগ্রহায়ণের ধানকাটা মাঠের উপর বসে আছি । আকাশে অর্ধনগ্ন তরুণীর মতো এক জোছনা দাঁড়িয়ে আছে । হিমেল বাতাসে শিরশিরানি দিয়ে যাচ্ছে শরীরে । শরীরের মধ্যে গতকাল থেকে নতুন এক ব্যথার প্রভাব জেঁকে বসেছে ।
ব্যথার চোটে চোখ ছোট হয়ে এসেছে । ব্যথানাশক ইনজেকশন খানিকটা স্বস্তি দিলেও পরে মধ্যরাতে আবারও জেগে উঠলো । তবে এ ক্ষতি, এ ব্যথা তাঁর দেয়া ব্যথার মতো দীর্ঘতম নয় সে জানি ।
মাথার চোট, বুকের চোট, শরীরের চোট যেন একসাথে সংসার পাতলো । যেমন মাছরাঙার ঠোঁটে যাঁর সংসার গড়ে উঠেছে । যে নারীর বিশালতার মাঝে আমি একটুকুও ঠাঁই পাইনি ।
এখনও কল্পনা করতে পারছি বলেই মনে হচ্ছে বেঁচে আছি, মরিনি । শারিরীক মৃত্যু এখনও ঘনিষ্ঠ করতে পারেনি আমাকে, মানসিক এক দীর্ঘ মৃত্যুতে জ্বলে যাচ্ছি কতকাল হলো । নিস্তার মেলেনি কিছুতেই, যদিও জানি কবি তাঁর কাঙ্ক্ষিত প্রেমিকাকে পাবে সে নিয়ম পৃথিবীতে নেই ।
একদিন কুয়াশার এই মাঠে আমারে পাবে না কেউ খুঁজে আর, জানি;
হৃদয়ের পথ চলা শেষ হল সেই দিন — গিয়েছে যে শান — হিম ঘরে,
অথবা সান্ত্বনা পেতে দেরি হবে কিছু কাল ।
—জীবনানন্দ দাশ
সাব্বির আহমেদ সাকিল
১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল | শুক্রবার | ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ইং | অগ্রহায়ণের মাঠের পরে, বগুড়া
Comments
Post a Comment