আবারও পাহাড়ে...

মাঝারি আবহের রোদ । যেতে হবে পাহাড়ের দেশে । পাহাড়ের কাছেই পার্শ্ববর্তী মার্কেট । মধ্যাহ্ন দুপুরের পর কাজ শেষ হলো । উদ্দেশ্য পাহাড়ের একদম কাছে যাবো । দূর্গাপুরের পাহাড়গুলো ছিলো ছোট আকারের কিন্তু এখানে বিশাল বিশাল পাহাড়ের সারি । 

চার্জার অটো নামিয়ে দিলো পাহাড় থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে । অটোওয়ালাকে ভাড়া দিয়ে হাঁটতে লাগলাম, কারণ যাওয়ার মতো বাহন নেই । মনে হচ্ছিলো এইতো কাছেই পাহাড় । আরেকটু আরেকটু করে হাঁটতে হলো দীর্ঘ একটা পথ । 


হাজং ও গারোদের গ্রামে ঢুকে পড়লাম । কোথাও ইট পাতানো, কোথাও পলি মাটির রাস্তা । 

গভীরের রাস্তায় ঢুকতেছি তো ঢুকতেছিই । যত দূরেই পাহাড় হোক, নিচে যাবোই । রাস্তার দু'পাশে আদিবাসী পুরুষ ও নারীরা ধান লাগাচ্ছে । ছেলেপেলেরা ফুটবল খেলছে । কেউবা বাজার করে বাড়ি ফিরছে । 

রোদের খুব বেশী তাপ নেই । হাঁটছি...হাঁটছি । গ্রামের শেষে দেখা মিলল পাহাড়ের তলদেশ । একটার পর একটা বড় বড় পাহাড় । পাহাড়ের নিচে বেগুনের ক্ষেত, ধানের ক্ষেত । পাহাড় থেকে একটা জলপ্রপাত নেমেছে, সেখানে একজন গোসল করছে । ফোন বের করে ঝটপট কয়েকটা ছবি ক্লিক করতেই দূর থেকে বৃষ্টির ভেসে আসা চোখে পড়লো । ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে তড়িঘড়ি করে দৌঁড়ে এক হাজং উপজাতির বাড়িতে উঠলাম । বারান্দায় একটা চেয়ার পেতে রাখা, বসলাম । যাঁর ওই বাড়ি তিনি আমার সাথেই গরু নিয়ে আসতেছিলেন । 
.

গরুকে গোয়ালে বেঁধে আমার পাশে আরেকটা চেয়ারে বসে বিড়ি ধরালেন । আমি লাইটার চেয়ে সিগারেট ধরালাম । তারপর এলো ঝমাঝম বৃষ্টি । নাম বললেন বিপ্লব হাজং । দুই ছেলে, এক মেয়ে । মেয়েকে দূর্গাপুরে বিয়ে দিয়েছেন, বড় ছেলে ঢাকাতে একটা কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে । ছোট ছেলে, স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন বিপ্লব হাজং । পূর্বপুরুষরাও এখানে থাকতেন বহু আগে থেকে । গরু পালন করেন, ধান চাষ করেন, সবজি চাষ করেই দিন চলে । আঙ্গুলের ফাঁকে সিগারেটের শলাকা পুড়ে যাচ্ছে, আমি মুগ্ধ হয়ে তাঁর কথা শুনছি । 


সেখানকার জমি ৬০-৬৫ হাজার(প্রতি কাঠা) বিক্রি হয় । বাঙালী ও উপজাতিদের মধ্যে ভালো সুসম্পর্ক । বেশ কয়েকবার জিজ্ঞেস করলাম বাঙালিরা বিরক্ত করে কি-না, প্রভাব খাটায় কি-না, বললেন যে না । সবাই সেখানে নিজ নিজ ভাবে বাস করে । 

পাহাড়ের চূড়োয় বৃষ্টির ঢল নামছে । পাহাড়ের গাছপালা বেয়ে ঝরে পড়ছে অঝোর বৃষ্টি । রোদ আর বৃষ্টি একসাথে হচ্ছে । সোনালী একটা বিকেল কেটে যাচ্ছে পাহাড়ের পাশে । আমার মনে হচ্ছিলো পাহাড়ের চূড়ায় যদি ভিজতে পারতাম, কিন্তু প্রস্তুতি ছাড়া সম্ভব নয় । একদিন হয়তো হয়েও যাবে!


বিকেল গড়িয়ে যাচ্ছে । ফিরতে হবে । বিপ্লব হাজং সনাতন ধর্মাবলম্বী, প্রতি বছর জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গাপুজার আয়োজন হয় সেখানে । কিছুদিন পর প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হবে । 

গোধূলি নামছে । অটোতে চেপে আবারও সেই ঠিকানার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম...

সাব্বির আহমেদ সাকিল 
 ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, বর্ষাকাল | সোমবার | ১৫ আগস্ট ২০২২ ইং | পাঁচগাঁও, মহেশখোলা, কলমাকান্দা, নেত্রকোনা

#পাহাড় #বৃষ্টি #ভ্রমণ #ঘোরাঘুরি #নেত্রকোনা #বাংলাদেশ

Comments

Popular posts from this blog

কবিতা | তুমি চলে যাবার পর

সংবাদমাধ্যমে দৈনদশা

কবিতা | এবং এখান থেকে