আধুনিকায়নের দাসত্ব
মানুষের জন্য সুস্থ আনন্দ, ফূর্তি, বিনোদনচর্চা, সংস্কৃতিচর্চা, বউ-বাচ্চাদের সময় দেয়া, পরিবার-পরিজনদের সময় দেয়া, আড্ডা, খেলাধুলা এসব অপরিহার্য বিষয় ।
সভ্য এই সমাজে আমরা দিনদিন অসভ্যতার নিম্নতর পর্যায়ে চলে যাচ্ছি । একেকটি মানুষ শৈশব-কৈশোরের খানিকটা সেসবের ছোঁয়া পেলেও পরিণত বয়সে মানুষ পারিপার্শ্বিকতার সাথে তাল মিলিয়ে হয়ে যাচ্ছে একেকটা রোবট ।
কর্পোরেট চাকুরেদের যেমন ছুটি নেই ঠিক তেমনি পুলিশ কিংবা সামরিক বাহিনীতে যাঁরা চাকরি করে তাঁদেরও খুব একটা ছুটি নেই । তবে এক্ষেত্রে পুলিশ অপেক্ষা সামরিক সদস্যরা খানিকটা স্বস্তিতে আছে । কারণ তাঁরা খানিকটা হলেও ছুটি কাটাতে পারে ।
কিন্তু কর্পোরেট চাকুরে, পুলিশরা তো সে সুযোগটা পায়না বা পাচ্ছেনা । বাধ্য হয়েই ঈদ কিংবা বিয়ের উৎসবেও তাঁরা প্রয়োজনীয় ছুটি পায়না । এ এক বর্বর শিকল, যেখান থেকে মানুষ বাধ্যবাদকতায় পড়ে নিজের সত্তাকে, অস্তিত্বকে হারাচ্ছে ।
অন্য একটা প্রসঙ্গে আসি, শশাঙ্ক রিডেম্পশন মুভি দেখেছেন নিশ্চয়ই, যেখানে বগস ও তাঁর সহযোগীরা ডুফ্রেনের সাথে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স করে । কিন্তু সেই সমকামীতার পিছনে আসলে কারণ কি! কারণ বন্দী থাকতে থাকতে তাঁরা মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে গেছে বলেই সেই কাজ করেছে ।
আমি আমার এক পরিচিতের কাছে শুনেছি অন্যান্য দেশের জেলখানাগুলোতে সমকামীতার এই প্রভাব খুব বেশী ।
যাইহোক, সেসব কথা বাদ । একটি সভ্য রাষ্ট্রে আইন করে, যেটা সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারিসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে আইন কার্যকর হবে যেখানে মানুষকে কিছুটা স্বস্তিতে রাখা যাবে, ভালো রাখা যাবে । যেখানে সে একটা মিনিমাম ছুটি পাবে, একটু ভালো সময় কাটাতে পারবে । আইন করে বাৎসরিক কর্মদিবস অনুযায়ী মানুষ কাজ করবে, যেই আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটবেনা ।
মানুষকে দাসের মতো খাটিয়ে, জুলুম করে, মানসিকভাবে বন্দী করে কুকুরের মতো সর্বক্ষণ জিহ্বা বের করে রাখা এইসব হিংস্র মনোভাব থেকে বের হয়ে আসা উচিত আমাদের সমাজের ।
নয়তো এই মানসিকভাবে মরতে মরতে আমরা একদিন কঠিন কোনো জীব হিসেবে পৃথিবীতে জায়গা করে নেবো ।
সাব্বির আহমেদ সাকিল
৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, বর্ষাকাল | রোববার | ১৪ আগস্ট ২০২২ ইং | কলমাকান্দা, নেত্রকোনা
Comments
Post a Comment