একটু আনন্দ
মানুষের জীবনে একটু আনন্দ থাকলে, বিনোদন থাকলে ক্ষতি কি । সবাই তো একটু আনন্দে থাকতে চায়, ভালো থাকতে চায়, সুখে থাকতে চায় । এমনেই পৃথিবীর চারিদিকে দুর্দশা, হাহাকার, অভাব, শূন্যতা!
কাজিনের বিয়েতে হুটহাট প্ল্যান হলো সাউন্ড বক্স আনবো । তিনটা বাইক নিয়ে পাঁচজনে টান ধরলাম । একটা জায়গায় বক্স পাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে পাওয়া গেলোনা, অন্য জায়গায় গিয়ে পাওয়া গেলো । ভ্যানে ভাড়া করে বাড়ির পথে ।
একেকজন একেক পছন্দের গান বাজাচ্ছে । বাচ্চারা নাচছে, গাইছে । রাতের বেলা ফুফু বলেই ফেললেন, এইসব কি গান বাজাও নব্বই দশকের সেই গানগুলো বাজাতে পারোনা । নব্বই দশকে সালমান, আমির, প্রিয়াংকার সিনেমার গানগুলো ছিলো সুপারহিট, আর গোবিন্দ, হিমেশ রেশমিয়ার গান মানে তো কথাই নেই ।(সে সময়কার অনেক শিল্পীর নাম জানিনা আমি, ক্ষমা করবেন)
একেকপর এক নব্বই দশকের সেই গানগুলো বেজে যাচ্ছে । ‘সাজান তুমসে, লাল দোপাট্টা, তেরি চুনারিয়া, হাম তুমকো নিগাহোনে’ । আর মনে হচ্ছে ফুফু, জ্যেঠাতে বোনেরা, ফুফাতো বোনেরা এখনই ওড়নাটা কোমরে বেঁধে নাচতে লাগবেন । কারণ একসময় তাঁরা ভালো নাচতেন । সুন্দর একটা কৈশোর ছিলো তাঁদের ।
যখন সিডি প্লেয়ারের সময় ছিলো তখন দেখতাম কি উচ্ছ্বাস এসব গানকে ঘিরে । কি দারুণ একটা সময় ছিলো । কোথাও পিকনিকে গেলে কিংবা এলাকাতে খেলার আয়োজন পর একনাগাড়ে চলতো এসব গান । আমার ছোট কাকা ভালো ড্যান্সার ছিলো ।
বড় আপা, কাকা, ফুফু সবাই গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেকে । বয়স বেড়েছে, বাচ্চারা বড় হয়ে গেছে এই বয়সে কি আর ওসব মানায় ।
ক’দিন আগে একটা অফিসে কয়েকজন মধ্যবয়স্ক লোকের ড্যান্সের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে । সেই ভিডিওতে অধিকাংশ-ই হাহা রিয়্যাক্ট, বিদ্রুপমূলক কমেন্ট করেছেন । আজকের এই বিদ্রুপ করা লোকেরা বোধহয় কখনও সেই বয়সে পৌঁছাবেননা । তাঁদের আর আনন্দের, ফূর্তির দরকার পড়বেনা । কি লেইম হিপোক্রেসি আমাদের!
সবাই আনন্দে বাঁচুক, প্রাণভরে শ্বাস নিক, সংগীতের মূর্ছনায় পুরোনো দিনে ফিরে যাক । নব্বই দশক আসলেই এক অনন্য সুরের ঝংকার ।
সাব্বির আহমেদ সাকিল
১৮ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, বর্ষাকাল | মঙ্গলবার | ০২ আগস্ট ২০২২ ইং | পূর্বধলা, নেত্রকোনা
Comments
Post a Comment