নক্ষত্রের মায়া
স্থান কিংবা মানুষ এক অদ্ভুত মায়া । প্রতি রাতে ঘাসের উপর, ছাদের উপর সুয়ে আকাশ দেখার এক অদ্ভুত মায়া কাজ করে । কত দিন, কত মাস, কত বছর, কত যুগ কেটে যায় মানুষের । তবুও মায়া থেকে যায় ।
বছরের পর বছর অন্য এক অপরিচিত বাড়িতে মেয়েরা সংসার পাতে । সেই বাড়িতে সন্তানসন্ততি জন্ম দেয় । স্বামী আগে মারা গেলেও সেই বাড়িতেই সারাজীবন কেটে দেয় । সেই একই ঘর, একই গোয়ালঘর, একই রান্নাঘরে কাজ করে যায় ।
আমার কেন যেন একটা দীর্ঘ বিশ্বাস কাজ করে সেটা হলো, মেয়েরা অন্যের বাড়িতে বউ হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সবথেকে আপন সঙ্গী, মায়ার সঙ্গী হয়ে যায় ‘চুলা’ । যেখানে দুই-তিন বেলা বেশী সময় কাটে । মাটির চুলা হলে সেটা লেপ দিয়ে, আল্পনা করে ।
প্রতিদিন সকালে উঠে বাসনকোসন মাজা, রান্নার আইটেম তৈরি করা, চুলা ধরানো । খাবার তৈরি করে সেসব আবার পরিবেশন করানো ।
যাঁরা বনে বাস করে, মাছ ধরে । তাঁরা কৈশোর থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত সেই বনের মাঝেই কাটিয়ে দেয় । দিনে রোজকার যতই হোক, তবুও কেটে যায় প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাত । যখন থরথর বৃদ্ধ হয়ে যায় মানুষ, ঠিক তখনও তাঁর ইচ্ছে করে আবারও বনে যেতে; মধুর চাক কাটতে, নদীতে মাছ ধরতে ।
এই রুলস অনুসরণ করতে করতে সারাটা জীবন কেটে যায় । একটা স্কুলেই সারাজীবন শিক্ষকতা করা শিক্ষকটা, দপ্তরীটা, ক্যারানিটা । অবসর নেয়ার পরও সেই স্কুলের মায়া কাটেনা । মনে পড়ে স্কুলে কাটানো কোনো ভালো স্মৃতির কথা, খারাপ স্মৃতির কথা ।
দিন বাড়তে থাকলে মায়া বাড়তে থাকে । জগৎব্যাপী এত মায়ার আচ্ছাদন, তবুও আমরা দেখি নিষ্ঠুরতা । পৃথিবী মায়ার চাইতে, ভালোবাসার চাইতে নিষ্ঠুরতাকে বেশী প্রশ্রয় দেয় ।
মানুষ এক জীবনটা বড্ড মায়ার...বড়ই মায়ার ।
সাব্বির আহমেদ সাকিল
১০ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল | বৃহস্পতিবার | ২৫ আগস্ট ২০২২ ইং | কলমাকান্দা, নেত্রকোনা
Comments
Post a Comment