এক গোধূলি
এ এক অনন্য গোধূলি সময় কাটছে । বাসা থেকে বের হলাম রোদ্দুরের তীব্রতার ছটা কমে যাওয়ার পর । গতকাল পূর্ণিমা হয়েছে, আজ জোছনার দেখা পেতে স্বভাবতই দেরী হবে ।
আমার নতুন ঠিকানার অদূরেই পাহাড় । উত্তর পাশে ঢেউ খেলানো বিশাল বিশাল পাহাড় । আল্লাহ পাক কোরআনে বলেছেন, পাহাড়গুলো হলো পৃথিবীর খুঁটি ।
গোধূলি কেটে যাচ্ছে । পাখিরা ঐ দূরের পাহাড় থেকে লোকালয়ের দিকে ফিরছে । পশ্চিম পাশের এক ঝোঁপে অসংখ্য পাখির কিচিরমিচির । এরকম কিচিরমিচির শেষ শুনেছিলাম আমার বন্ধু হাবীবের গ্রামে ।
আমার সামনে একটা হাওড় এবং পুকুর । হাওড়ে কয়েকজন মানুষ মাছেদের খাবার দিচ্ছে । চতুর্পাশে নৌকা নিয়ে ঘুরছে চারজন ।
গোধূলিতে কয়েক রকমের আকাশ লক্ষ্য করলাম । খানিক পর পর আকাশের রঙ বদলাচ্ছে । ইয়ারফোনে, ‘শাইন অন ক্রেইজি ডায়মন্ড’ বাজছে ।
একটু দূরে মসজিদের একটা মিনার দেখা যাচ্ছে । তারপর একটা মোবাইল টাওয়ার । পৃথিবীতে আলো কমতে শুরু করেছে, আলোর পথ ধরে নেমে যাচ্ছে অন্ধকারে । বাড়িতে বাড়িতে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে উঠছে ।
নিরন্তর একাকীত্ব এবং নিঃসঙ্গতাকে উদযাপন করছি । গোধূলির এই সময়টাতে মন ভারী হয়ে থাকে । জীবন থেকে একটি দিন ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে বলে । ধরাবাঁধা জীবন থেকে একটি সোনালী দিন কত সহজেই চলে যায় । মানুষও তো কম নয়, অবলীলায় কত মানুষ চলে যায় । প্রতীক্ষায় রাখে, রাখেনা!
হাওড়ের মাঝে কয়েকটি খুঁটি পুঁতে রাখা হয়েছে । যেন কেউ জাল ফেলে মাছ ধরতে না পারে । সেই খুঁটিতে বসে আছে একটা ফিঙ্গে পাখি । হাওড়ের উপরিস্থল থেকে পোকা ধরছে ।
অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে । খানিক পরেই জোছনা উঠবে পৃথিবীকে আলো করে...
সাব্বির আহমেদ সাকিল
২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, বর্ষাকাল | শুক্রবার | ১২ আগস্ট ২০২২ ইং | কলমাকান্দা, নেত্রকোনা
Comments
Post a Comment