মৃত্যু একটি বিকল্প ধারণা মাত্র

ইশ্বরকে খুশি করতে, বৃষ্টি নামাতে, ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে বাঁচতে, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, দূর্ভিক্ষ থেকে বাঁচতে কারা নরবলি দিতো জানেনতো নিশ্চয়ই । নর বা মানুষ হত্যার এই প্রথা বহু প্রাচীন । জাদুটোনা করে মানুষকে পাগল বানিয়ে দেয়া, ব্ল্যাক ম্যাজিকের ক্ষেত্রে মানুষকে হত্যা করা, কুমারী সতী যুবতীর লাশের সাথে যৌনসম্পর্কও পৃথিবীর অতি প্রাচীন রীতি । 

মানুষ হত্যার মধ্যে দিয়েই পৃথিবীর বয়স আজ প্রায় চারশো চুয়ান্ন কোটি বছর । মানুষের মৃত্যুর মধ্যে দিয়েই পৃথিবীর এক শ্রেণীর মানুষ লাভবান হয়েছে । লাভের হিসেবটা বুঝিয়ে দিচ্ছি ছোট্ট একটি উদাহরণ দিয়ে, যখন কোনো এলাকায় একটি নরহত্যা হয় তখন সে এলাকার মানুষরা সেই খুনীকে ভয় করে চলে । এবং সেই ভয়কে কাজে লাগিয়ে সে তাঁর সর্বোচ্চ সফলতা অর্জন করে । মৃত্যু ঘটনো ছাড়া পৃথিবীতে ভয় তৈরি করার ইনস্ট্রুমেন্ট আর কোনোটা হয়না!

পৃথিবীর সবকিছুই যেমন একদিনে সৃষ্টি হয়নি তেমনি এইসব রীতি-প্রথাও একদিনে সৃষ্টি হয়নি । 

একসময় পৃথিবীতে যখন জরা, ঝড়-ঝঞ্ঝা নেমে আসতো তখন মানুষ অলীক চিন্তা থেকেই বড় কোনো দানবকে, হিংস্র প্রাণীকে ইশ্বর হিসেবে মেনে নিয়ে পূজা করেছে । মানুষ বাঁচার আশায়, সুখের আশায় কত বিচিত্র যে কারণ ঘটিয়েছে তা বই পড়লে, ডকুমেন্টারি দেখলে জানা যায় । 

চারপাশে যে মৃত্যু আমরা দেখি তা হলো মানুষের ভয়কে জাগিয়ে দেওয়ার জন্য, আমাদেরকে দমানোর জন্য । পৃথিবীর আদি যুদ্ধের বিষয়গুলো ঘেঁটে দেখুন সব একই, শুধু ধরণটা বদলেছে । 

মৃত্যু মানুষকে বদলে দিয়েছে, বদলে দিয়েছে মানুষের ভাবনাকে, বদলে দিয়েছে সভ্যতাকে । প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে রাজ করে বেড়ানো ডাইনোসররাও বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো । পৃথিবীতে সেটি ছিলো পঞ্চম গণবিলুপ্তি । ডাইনোসরদের পর আর কোনো গণবিলুপ্তির ঘটনা পৃথিবীর বুকে ঘটেনি । 

পৃথিবীর যত বয়স বাড়বে মানুষের হত্যার ধরণ তত পাল্টে যাবে । মানুষকে শাস্তি দেওয়ার পদ্ধতিও বদলে যাবে । আর এসব মৃত্যুই পরবর্তী মানুষকে ভাবাবে, কাঁদাবে, দমাবে...

২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | সোমবার | ০৬ জুন থেকে ২০২২ ইং

Comments

Popular posts from this blog

কবিতা | তুমি চলে যাবার পর

সংবাদমাধ্যমে দৈনদশা

কবিতা | এবং এখান থেকে