একটি সভ্য রাষ্ট্রে এ-ও হয়!
মিডিয়া কি সুন্দর আমাদেরকে সবকিছু ভুলিয়ে দিতে জানে । আমাদের দুঃখ, গ্লানি, হতাশা যেন এক নিমিষেই হারিয়ে দিতে জানে! অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কি সুন্দর ৬ মাসের বাচ্চা কামড় দিয়ে সাপ মেরে ফেললো সেটা দিয়ে ভুলিয়ে দিলো । গত ৫ই জুন কি ভয়াবহ একটা ঘটনা ঘটে গেলো । শুধু পাঁচ তারিখ-ই নয়, ছয়-সাত-আট তিন দিন-ই বিভিন্ন জায়গায় আগুন লেগেছে । ৪৯ জন তো বিএম ডিপোতেই মারা গেলেন । মানুষের জীবন্ত ভস্ম দেখলাম বিভিন্ন নিউজে । কত জান-মালের ক্ষতি বয়ে গেলো । কত পরিবার সন্তানহারা, সম্বলহারা হয়ে গেলেন । দু’শোর অধিক মানুষ বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছেন, কারোর ৪০-৮০% পুড়ে গেছে ।
আমাদের সোনার ফাইটাররা জীবন বাজি রেখে জীবন বাঁচাতে গিয়ে বারো জন পুড়ে গেলেন । অথচ এধরনের ঘটনা না ঘটলে তাঁরা দিব্যি ভালো থাকতেন । নিজের ডিউটি পালন করলেন ।
আচ্ছা এই বারোজন ফায়ার ফাইটার তো সরকারি চাকরি করতো । সরকারি বেতন, ভাতা, রেশন পেতেন । সবসময় সরকার যে নির্দেশনা দিতো তাঁরা সেটা পালন করতেন । কোনো জাতীয় দিবসে তো ঘরে বসে ঘুমাননি, তাঁরা ঠিকই প্রোগ্রামের দিন জোগাড়যন্ত্র করেছেন । ভোরে আলো ফুটতেই সব ঠিকঠাক করে রাখতেন । সরকার এবং সরকাি কাজে সর্বদায়ই সাহায্য করে গেছেন ।
সব দপ্তরের মানুষগুলোই করেন । পুলিশ, র্যার, বিজিবি, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী সবাই সরকারের জন্য কাজ করেন । একজন পুলিশ সদস্যের পা’ও উড়ে গেলো সেই বিস্ফোরণে । সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেলেন ।
আচ্ছা এই যে ক্ষয়ক্ষতি হলো সরকারি মানুষদের, সাধারণ মানুষদের । সাধারণ মানুষদের জীবন নাহয় নগণ্য, স্বল্প টাকাতেই(পঞ্চাশ হাজার বিনিময়মূল্যে) কিনতে পাওয়া যায়; মূল্যহীন জীবন তাঁদের ।
কিন্তু সরকারি লোকগুলো যে মারা গেলো, একটা সভ্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কি একটা মিনিটের জন্য হলেও জাতীয় শোক ঘোষণা করা যেতনা । অন্তত সরকারি লোকগুলোর জন্য হলেও । অথচ আমরা বিভিন্ন সময় নিউজে দেখেছি বৈদেশের অনেকেই মারা গেলে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করার হয় । কিন্তু আমার দেশের লোকগুলো কি জাতীয় শোকের বাহিরে ছিলো? আমি জানিনা, সত্যিই জানিনা!
আমি বলছি শুধু সরকারি লোকগুলোর জন্য একটু জাতীয় হোক পালন করা হতো । অন্তত সরকারি লোকগুলো জানতো যে বীরের মতো জীবন দেয়ার পর তাঁদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হয় । যাঁরা সরকারের জন্য সর্বস্বতা দিয়ে কাজ করে যান । প্রয়োজনে সরকারের জন্য সাধারণ মানুষদের সাথে যেকোনো আচরণ করেন ।
আরেকটি পয়েন্ট নিয়ে বলবো, সবেমাত্র দেশে এক বড় দূর্ঘটনা ঘটে গেলো । যাঁরা দূর্ঘটনায় মারা গেলেন তাঁদের কুলখানির আয়োজনও বোধহয় এখনও করা হয়নি । কারণ আমি যতদূর জানি, মৃত্যুর সাতদিনের মধ্যে কুলখানি করা হয় এদেশে ।
অথচ এঁর মধ্যেই আজ ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে কোক স্টুডিও বাংলার আয়োজনে বিশাল কনসার্টের আয়োজন চলছে । গান-বাজনা চলছে, হৈ-হুল্লোড় চলছে । মানুষ মেতে উঠেছে আনন্দে-উল্লাসে । কি ভয়াবহ ব্যাপার ।
আমাদের দুঃখ-কষ্ট, বেদনাগুলো এত সহজলভ্য হয়ে গেলো কবে থেকে । এতই সস্তা হয়ে গেলো আমাদের আবেগ-অনুভূতি? একটু অন্তত লজ্জা থাকা দরকার এই জাতির । বড্ড সেল্যুকাস আমরা!
সাব্বির আহমেদ সাকিল
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | বৃহস্পতিবার | ০৯ জুন ২০২২ ইং
Comments
Post a Comment